1

যে জন্ম দিতে পারে তার পক্ষে সব কিছুই করা সম্ভব

Share

জাকিয়া সুলতানা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ২০০৬ সালে বৈশাখী টিভিতে সহকারী প্রযোজক হিসেবে শুরু হয় আমার কর্মজীবন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত  কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে কাজ করছি নেক্সাস টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রযোজক হিসেবে। পাশাপাশি নেক্সাস টেলিভিশনের ‘সাতদিন’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপনাও করছি। এর বাইরে আমি বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত নাট্যশিল্পী। ‘কী কমিউনিকেশন’ বিজ্ঞাপন সংস্থায় ক্রিয়েটিভ কনসালটেন্ট হিসেবে যুক্ত আছি। যুক্ত আছি ‘পাপেট থিয়েটার রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট সেন্টার অব বাংলাদেশ’ এর একজন সদস্য হিসেবে। বাচ্চাদের জন্য লিখতে ভাল লাগে। ভালবাসার জায়গা থেকেই জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘খাট্টা মিঠা’র বেশ কিছু স্ক্রিপ্ট করেছিলাম। 

ছবি কৃতজ্ঞতা: হাসান রাজা

এ সবকিছুর মধ্যে যে কাজটি আমাকে অন্যরকম তৃপ্তি দেয় এবং আমাকে আরো বেশি উদ্যমী করে তোলে তা হচ্ছে অনুষ্ঠান নির্মাণের সাথে যুক্ততা। সৃষ্টির আনন্দের আলাদা একটা তৃপ্তি রয়েছে। নেক্সাস টেলিভিশনে যে কাজগুলো করছি তার মধ্যে ‘লেডিস ক্লাব’ অনুষ্ঠানটি একেবারেই ভিন্ন চিন্তা থেকে করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটির টার্গেট অডিয়েন্স হলো সকল শ্রেণি-পেশা ও বয়সের নারী। ২০২১ সালের ১ নভেম্বর নেক্সাস টেলিভিশনে শুরু হয় ‘লেডিস ক্লাব’ নামের  এ  অনুষ্ঠানটি। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটির দর্শকপ্রিয়তা তুঙ্গে, বিশেষ করে নারীদের কাছে। এর প্রযোজক হিসেবে আমি অনেক গর্ববোধ করি।

ছবি কৃতজ্ঞতা: ফারহানা ফারা

স্টুডিও অতিথিদের সাথে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এমনকি দেশের বাইরে থেকেও অনেক নারী জুম লিংকের মাধ্যমে যুক্ত হন লেডিস ক্লাবে। নারীদের নানা সমস্যা, সমসাময়িক বিষয়, আবেগ অনুভূতির নানা বিষয় নিয়ে আড্ডা আলোচনার মাধ্যমে সকল নারী তার মতামত ব্যক্ত করেন মন খুলে। পারস্পরিক মত আদান-প্রদানের মাধ্যমে সকলের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক অন্যরকম হৃদ্যতা, ভিন্ন এক বন্ধন। লেডিস ক্লাবের সদস্য সংখ্যা প্রায় বিশ হাজার। প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টায় লেডিস ক্লাবে বসে নারীর শক্তির সম্মিলন, যা অন্য সব অনুষ্ঠান থেকে আলাদা। আমার সাথে এ অনুষ্ঠানে নিরলসভাবে সহকারী প্রযোজনার দায়িত্ব পালন করছে অমিত রায় ও মোহাম্মদ হাছান। তাদের দুজনের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় প্রতিদিনের সরাসরি অনুষ্ঠান ‘লেডিস ক্লাব’ এগিয়ে চলেছে দারুনভাবে। এছাড়াও টেকনিক্যাল টিম যেমন-ক্যামেরা, লাইট, এডিটিং, অডিও এমন সব সেক্টরের সকলের কাছেও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সবসময়।

লেডিস ক্লাব: স্টুডিও ও জুমের অতিথি

একই টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘তুমিই প্রথম’, ‘তারকা মা ও সন্তানকে নিয়ে অনুষ্ঠান ‘স্টার মম’ এ দুটি অনুষ্ঠানের প্রযোজকও আমি। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে প্রথম নারীদের আত্মজীবনীমূলক অনুষ্ঠান ‘তুমিই প্রথম।’ শৈশব থেকে শুরু করে তাঁদের জীবনের নানা বাঁকবদল, প্রথম হয়ে ওঠার জার্নি এসব তুলে ধরা হয় ‘তুমিই প্রথম’ অনুষ্ঠানে। এসব নারীদের অগ্রসরমান চিন্তা ভাবনা জীবনযাপন পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে এই ভাবনা থেকেই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করা হয়। অনুষ্ঠানটির আর্কাইভ মূল্যও রয়েছে। এটিও বেশ জনপ্রিয় অনুষ্ঠান।

স্টার মম: শুটিং সময়ের ছবি

 পাশাপাশি ‘স্টার মম’ নামে অনুষ্ঠানটিও বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে দর্শকের কাছে। বিভিন্ন সেক্টরে সফল মা ও তার সন্তানের একান্ত গল্পকথা নিয়ে ‘স্টার মম।’ সেলিব্রেটি মায়েদের সন্তান লালন পালন নিয়ে ভাবনা, মা হয়ে ওঠার পথচলা এসবই তুলে ধরা হয় ‘স্টার মম’ অনুষ্ঠানে। ইতোমধ্যেই নেক্সাস টেলিভিশন নারীবান্ধব চ্যানেল হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি আমার জন্য অনেক গৌরবের। 

তুমিই প্রথম: জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুনের সাথে

লেখালেখিটা আমার প্যাশন। ২০১৬ সালে এনটিভিতে ‘ফিনিক্স ফ্লাই’ ও ২০১৮ সালে জিটিভিতে ‘কাঠ পুতুলের গল্প’ নামে দুটো নাটক প্রচারিত হয় আমার লেখা গল্প অবলম্বনে। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি শিশুদের জন্য লিখতে। বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৩ সালে আমি বাংলাদেশ বেতারের নাট্যশিল্পী হিসাবে তালিকাভুক্ত হই। অভিনয় করেছি একাধিক বেতার নাটকে। দেশ ও দেশের বাইরে একাধিক মঞ্চনাটকেও অভিনয় করেছি। বিভিন্ন টেলিভিশনের জন্য তথ্যচিত্র, গেইম শো, লাইভ শো, কুকিং শো সহ নানা ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণ করেছি ।

তুমিই প্রথম: মনোবিজ্ঞানী আনোয়ারা সৈয়দ হক ও বিশ্বখ্যাত মডেল, ডিজাইনার বিবি রাসেলের সাথে

গণমাধ্যমে কাজ করার ফলে এর কন্টেন্ট নির্মাণ করতে নিজেকে হতে হয় বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। গবেষণা থেকে শুরু করে পান্ডুলিপি তৈরি, উপস্থাপনা, সম্পাদনা, পরিচালনা। আবার একটি টিম পরিচালনা করার দক্ষতা ও সকলের সাথে মানিয়ে চলার একটা যোগ্যতা তৈরি হয়। এখানে নানা ধরনের মানুষের সাথে মেশার সুযোগ যেমন রয়েছে তেমনি নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অগ্রগণ্য ব্যক্তিবর্গের জীবনযাপন সবকিছুর সাথে একাত্মতার ফলে গণমাধ্যমে কাজ করা মানুষটি একজন শুদ্ধ ও রুচিশীল মনন লাভের সুযোগ পায়। একজন শুদ্ধ, সুচিন্তার মানুষই পারেন সমাজে পরিবর্তন আনতে। অনুষ্ঠান নির্মাতা হিসাবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই ভালো মানের অনুষ্ঠান নির্মাণের প্রতি সবসময়ই মনোযোগ ছিল এবং আছে। নির্মাতা হিসাবে নারীরা খুব কম কাজ করেন। সৃজনশীল এই পেশায় সৃষ্টির আনন্দ রয়েছে।

সাতদিন: অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের সাথে। সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম, নৃত্যশিল্পী লুবনা মরিয়ম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মফিদুল হক

পরিবারের মানুষের বাইরের কথা যদি বলি তাহলে বলবো আমি যে বিষয়ে পড়ালেখা করেছি তখন শুনতে হতো ‘নাটক’ বিষয়ে পড়ে কী করবো, ক্যারিয়ার কী হবে ইত্যাদি। আমি যে সময়ে জবে জয়েন করি তখন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ভরপুর সময়। রেজাল্ট বের হবার আগেই চাকরি পেয়ে যাই, তাই বেকার থাকতে হয়নি। মিডিয়ার কাজটা অন্যান্য অফিস জবের মত নয়। আমি একজন অনুষ্ঠান নির্মাতা। আউটডোরে শুটিং থাকে, সরাসরি অনুষ্ঠান থাকে ফলে সেই সময়গুলো মেইনটেইন করতে হয়। একটু তো পরিশ্রম হয় কিন্তু আমি বলবো সৃষ্টির একটা আনন্দ শেষমেশ পাওয়া যায়।

সাতদিন: আবৃত্তিশিল্পী মাহিদুল হক, সংগীতশিল্পী ড. নাশিদ কামাল ও শিক্ষক ড. শামসুজ্জামান মিল্কির সাথে

প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের নারীদের কাজ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মূখীন হতে হয়। একজন নারীকে কর্মক্ষেত্রে এগোতে হলে পুরুষের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়। আবার নারীরা অফিসে ভাল করলে তাকে উৎসাহ দেয়ার বদলে পুরুষ সহকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে অন্য নারীরাও তার মনোবল ভেঙে দিতে চেষ্টা করে নানাভাবে। আমাদের দেশে এখনও নারী-পুরুষের বৈষম্যের কারণে সমান যোগ্যতা থাকার পরও  বেসরকারি সংস্থায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীর বেতন পুরুষের বেতনের চেয়ে কম।

সাতদিন: তিনভাই শতাব্দী ওয়াদুদ, সমাপ্তি মাসুক ও অদিদি মাহমুদ এবং প্রযোজক মাহমুদের সাথে

 আবার একই অফিসে নারী ও পুরুষ কর্মকর্তা একই পদমর্যাদার হলেও অধস্তনেরা পুরুষ কর্মকর্তাকে যতটা গুরুত্ব দেন, নারীর ক্ষেত্রে ততটা না। নারী উর্ধ্বতন অবস্থায় কাজ করছে এটা অনেকে মেনে নিতে পারে না। পুরুষের তুলনায় নারী এগিয়ে যাবে, এটা যেন মেনে নেওয়া এই সমাজের জন্য কঠিন। তবে আমার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয়েছে। অফিসের সহকর্মীরা সবসময় আমাকে কাজের ক্ষেত্রে বেশ সহযোগিতা করেছেন। আর নেক্সাস টেলিভিশনের পরিবেশ ভীষণভাবে নারীবান্ধব। এখানে কাজ করতে অসুবিধা হয় না।

লেডিস ক্লাব: উপস্থাপক ও অতিথিদের সাথে

আমাদের সমাজে নারীর যে অবস্থান সেই জায়গা থেকে বলতে গেলে আমি খানিকটা প্রিভিলেজড। আমার পরিবার আমাকে নারী হিসাবে আলাদাভাবে ট্রিট করেনি কখনও। আর বিয়ের পরও আমি ততটাই সুবিধা পেয়েছি যতটা বিয়ের আগে পেতাম। তবে নারী হিসেবে সামাজিক ঘেরাটোপগুলো আমাদের মগজে প্রথিত থাকে বলে কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়েই থাকি। সন্তান জন্মের পর আমার কর্মবিরতি ছিল। বাচ্চাকে টেক-কেয়ারের জন্য নির্ভরযোগ্য অবস্থা না থাকায় কর্মবিরতি নিতে হয়। যদিও আমি সেই সময়টাকে আমার উচ্চশিক্ষায় কাজে লাগাই। 

লেডিস ক্লাব: সেটে অতিথিদের সাথে

তবে ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে আমার সন্তান জন্ম হওয়ার পর একটু অস্থিতিশীল অবস্থায় পড়তে হয়েছিল। আসলে সন্তান জন্মের পর নারীর ক্যারিয়ার ব্রেক একটি সাধারণ সমস্যা। সন্তানকে কোথায় রেখে অফিস করবে, এ নিয়ে খুব দ্বিধায় পড়ে যাই সেই সময়। তখন একটি বিরতি পড়ে আমার কর্মজীবনে। সেখান থেকে আবার কাজে ফেরা। নতুন করে নিজের অবস্থান তৈরি করা। সময়টা সহজ ছিল না। এভাবেই এগোতে হয়েছে। আমার ধারণা বাংলাদেশে ডে- কেয়ার ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় অনেক কর্মজীবী মা’কে সমস্যায় পড়তে হয়; অনেকেই ঝরে পড়েন কর্মক্ষেত্র থেকে।

লেডিস ক্লাব: অনুষ্ঠানের আড্ডা শেষে ফটোসেশন

কর্মজীবি নারীদের প্রধান সমস্যা হলো অফিস সামলেও তাকে ঘরের কাজ করতে হয় সমানভাবে। এক্ষেত্রে ঘরের কাজগুলো ভাগাভাগি হলেই তারা আরো অনেক বেশি নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন বলে আমি মনে করি। পরিবারের সদস্যদের এদিকে যত্নবান হওয়া উচিত। একজন নারী যদি আর্থিকভাবে সফল হন এর সুফলতা পরিবারের প্রতিটি সদস্যই পাবেন এটা অনেকেই ভুলে যান। 

সাতদিন: অনুষ্ঠান সঞ্চালনায়

আমাদের দেশের নারীরা নিজের মতামতের গুরুত্ব না দিয়ে বাবা-ভাই-স্বামীর হাত ধরে জীবন পার করে দেয়। কিন্তু সময় বদলেছে। নারীর আত্মনির্ভরশীলতা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আত্মনির্ভরশীলতা মানে নিজের ওপর নির্ভরশীলতা। একজন নারী যখন অন্যের ওপর নির্ভর না করে নিজেই নিজের অবস্থান তৈরি করেন, তার চাহিদা মেটান, তার পছন্দমত স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারেন সেটাই আত্মনির্ভরশীলতা। আত্মনির্ভরশীলতা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

লেডিস ক্লাব টিম

এজন্যে নারীশিক্ষা জরুরি, আর এরপর তাকে স্বাবলম্বী হতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী নারী অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল। একজন মানুষ তার নিজস্ব শক্তি ও আত্মনির্ভরশীলতা থেকেই নিজের স্বাধীনতা অনুভব করে। শুধুই সংসার ও পরিবার প্রতিপালনে নারী কখনই সুখী হতে পারে না, কারণ চাকরিটা তাঁর কাছে যতটা না আর্থিক প্রয়োজনের, তারচেয়ে বেশি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য বিকাশের, পরিচিতির। আত্মনির্ভরশীলতার মধ্য দিয়ে যেকোনো অসুবিধাকে জয় করা যায়।

লেডিস ক্লাব: সেটে অতিথিদের সাথে

এছাড়াও একজন নারীকে সামনে এগোতে হলে অবশ্যই নিজের কাজের প্রতি ভীষণ ডেডিকেটেড হতে হবে, সৎ থাকতে হবে। কেবল নারী নয়, যেকোনো মানুষের ক্ষেত্রেই বিষয়টি সত্য। প্রতিবন্ধকতা আসবেই। এসব ভেবে হয়তো মন খারাপ হবে, কষ্ট লাগবে। কিন্তু সবকিছু মাড়িয়ে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। 

সাতদিন: সেটে অতিথিদের সাথে ফটোসেশন

আমাদের দেশে নারী শিক্ষা বৃদ্ধির সাথে সাথে নারী চাকরিজীবীর হার বেড়েছে। তবে প্রথম শ্রেণির চাকরিজীবীদের মধ্যে নারী এখনো অনেক কম। এর কারণ উচ্চশিক্ষার অভাব। এছাড়া অনেক নারী দীর্ঘসময় চাকরিতে টিকে থাকতে পারে না। বিবাহিত নারীকে চাকরি জীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হয়। অনেককেই সন্তান জন্ম বা প্রতিপালনের জন্য স্বামীর জোরাজুরিতে চাকরি ছাড়তে হয়। বদলির কারণেও অনেক নারী হয় চাকরি ছাড়েন, না হয় দুর্বিষহ জীবনযাপন করেন। অনেকে চাকরির অনুমতি পান এ শর্তে যে, তাঁর বেতনের পুরোটাই স্বামীর হাতে তুলে দিতে হবে। 

লেডিস ক্লাব: কলকাতার বন্ধু অপরাজিতা ঘোষ ও অন্যান্যদের সাথে

এতসব হতাশা নিয়ে চাকরি করতে গিয়ে নারীদের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় আর দিনের বেশির ভাগ সময় অসন্তুষ্টির মধ্যে কাটিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তারা। এমনকি আমাদের দেশে এখনো কোনো কোনো অফিসে নারীর জন্য আলাদা প্রক্ষালন কক্ষের সুবিধা নেই। সন্তান পালন বা নানাবিধ কারণে কর্মক্ষেত্রে নারীরা ঝরে পড়েন। সংসার সামলানো একটা বড় দায়িত্ব হলেও এর অর্থনৈতিক কোন মূল্যায়ন নেই তাই ব্যবসা একটা ভালো পদক্ষেপ হতে পারে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য লোনের সুযোগ দিচ্ছে। ব্যবসা হতে পারে নারীর আত্মকর্মসংস্থানের ভালো একটা ক্ষেত্র। এতে বাড়ির সংস্পর্শে থেকেই ঘর বাহির দুটোই সামলানো সম্ভব।

লেডিস ক্লাব: ১ বছর পূর্তিতে কেক কাটা পর্ব

নারী মানেই এক শক্তির আধার। একজন নারী প্রকৃতিগতভাবেই ধারণ করার শক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। যে জন্ম দিতে পারে তার পক্ষে সব কিছুই করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন পারিপার্শ্বিক সহযোগিতা। আর প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। তাহলেই দেশের অগ্রগতি দ্রুত সম্ভব। নারীদেরকেও দৃঢ় মনোবল ধরে রাখতে হবে। ‌’আমি নারী আমি সব পারি’ নিজের প্রতি এই বিশ্বাস থাকতে হবে।

জাকিয়া সুলতানা, অনুষ্ঠান প্রযোজক, নেক্সাস টেলিভিশন